ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৫৪ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 70

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এবারো মেয়েরা এগিয়ে। ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লাসে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। ঢোলের তালে তালে নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা। কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট করে দারুণ উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। এজন্য পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কৃতি শিক্ষার্থীরা।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে ফল ঘোষণা করেন। এসময় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায়, অংশ নেয়া ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৯ হাজার ৯৬ জন। এরমধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ১৬ হাজার ৬৭৬ এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ২২ হাজার ৪২০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৮৪ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছেলে ১ হাজার ১১৭ এবং মেয়ে ১ হাজার ৫৬৭। জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এবারো মেয়েরা এগিয়ে।

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘বিজ্ঞান শাখায় ৭৬ দশমিক ৯০ শিক্ষার্থী পাস করলেও মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ফলে ভরাডুবি হয়েছে। এ দুই শাখায় পাসের হার যথাক্রমে ৪৫ দশমিক ৬৪ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৪১ দশমিক ১২ শতাংশ। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং ম্যানেজিং কমিটি সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।’

দিনাজপুর বোর্ডের ৪৩ কলেজে পাস করেননি কেউ

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চার জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এ জেলার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়াও শেরপুর জেলায় ৪৮ দশমিক ৬৯, জামালপুর জেলায় ৪৭ দশমিক ৪১ এবং নেত্রকোনা জেলায় ৪৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এবার, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা শতভাগ পাশ করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরজিথর হাই স্কুল এন্ড কলেজ এবং নেত্রকোণার খালিয়াজুরি উপজেলার আব্দুল জব্বার রাবেয়া খাতুন হাই স্কুল এন্ড কলেজ।

এদিকে, শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫টি। এর মধ্যে ময়মনসিংহের সাতটি, জামালপুরের দুটি, নেত্রকোণার চারটি এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ভুটিয়ারকোণা আদর্শ হাই স্কুল এন্ড কলেজ, নান্দাইলের বরিল্লা কে. এ. হাই স্কুল এন্ড কলেজ, ত্রিশালের সিটি রয়েল কলেজ, ত্রিশাল আইডিয়াল কলেজ, গৌরীপুর পাবলিক কলেজ, মুক্তাগাছার প্রিন্সিপাল পারভীন জাকির কলেজ, ফুলবাড়িয়ার আলাপসিংহ কলেজ।

আরও রয়েছে, জামালপুরের বকশিগঞ্জের চন্দ্রাবাজ রাশিদা বেগম স্কুল এন্ড কলেজ এবং মেলান্দহ উপজেলার এস এম শিখা মোখলেসুর রহমান কলেজ, নেত্রকোণার কেন্দুয়র গোপালপুর মডেল কলেজ, জনতা আদর্শ মহাবিদ্যালয়, নেত্রকোণা সদেরর ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ, পূর্বধলার জোবায়দা জহুরউদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ, শেরপুর সদরের মন্মথ দে কলেজ, নালিতাবাড়ি উপজেলার হীরন্ময়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৩০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলো। এরমধ্যে ৫১ শিক্ষার্থী অসাদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার হয়েছিলো।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৫৪ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৬:২৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এবারো মেয়েরা এগিয়ে। ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লাসে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। ঢোলের তালে তালে নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা। কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট করে দারুণ উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। এজন্য পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কৃতি শিক্ষার্থীরা।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে ফল ঘোষণা করেন। এসময় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায়, অংশ নেয়া ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৯ হাজার ৯৬ জন। এরমধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ১৬ হাজার ৬৭৬ এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ২২ হাজার ৪২০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৮৪ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছেলে ১ হাজার ১১৭ এবং মেয়ে ১ হাজার ৫৬৭। জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এবারো মেয়েরা এগিয়ে।

ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘বিজ্ঞান শাখায় ৭৬ দশমিক ৯০ শিক্ষার্থী পাস করলেও মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ফলে ভরাডুবি হয়েছে। এ দুই শাখায় পাসের হার যথাক্রমে ৪৫ দশমিক ৬৪ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৪১ দশমিক ১২ শতাংশ। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং ম্যানেজিং কমিটি সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।’

দিনাজপুর বোর্ডের ৪৩ কলেজে পাস করেননি কেউ

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চার জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এ জেলার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়াও শেরপুর জেলায় ৪৮ দশমিক ৬৯, জামালপুর জেলায় ৪৭ দশমিক ৪১ এবং নেত্রকোনা জেলায় ৪৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এবার, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা শতভাগ পাশ করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরজিথর হাই স্কুল এন্ড কলেজ এবং নেত্রকোণার খালিয়াজুরি উপজেলার আব্দুল জব্বার রাবেয়া খাতুন হাই স্কুল এন্ড কলেজ।

এদিকে, শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫টি। এর মধ্যে ময়মনসিংহের সাতটি, জামালপুরের দুটি, নেত্রকোণার চারটি এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ভুটিয়ারকোণা আদর্শ হাই স্কুল এন্ড কলেজ, নান্দাইলের বরিল্লা কে. এ. হাই স্কুল এন্ড কলেজ, ত্রিশালের সিটি রয়েল কলেজ, ত্রিশাল আইডিয়াল কলেজ, গৌরীপুর পাবলিক কলেজ, মুক্তাগাছার প্রিন্সিপাল পারভীন জাকির কলেজ, ফুলবাড়িয়ার আলাপসিংহ কলেজ।

আরও রয়েছে, জামালপুরের বকশিগঞ্জের চন্দ্রাবাজ রাশিদা বেগম স্কুল এন্ড কলেজ এবং মেলান্দহ উপজেলার এস এম শিখা মোখলেসুর রহমান কলেজ, নেত্রকোণার কেন্দুয়র গোপালপুর মডেল কলেজ, জনতা আদর্শ মহাবিদ্যালয়, নেত্রকোণা সদেরর ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ, পূর্বধলার জোবায়দা জহুরউদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ, শেরপুর সদরের মন্মথ দে কলেজ, নালিতাবাড়ি উপজেলার হীরন্ময়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৩০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলো। এরমধ্যে ৫১ শিক্ষার্থী অসাদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার হয়েছিলো।