ডেনামার্ককে হারিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড
- আপডেট সময় : ০১:১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 73
সবশেষ যখন স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপ খেলেছে, দলের বর্তমান ফুটবলারদের অধিকাংশের জন্মই হয়নি তখন। ১৯৯৮ সালের পর আবারও বিশ্বসেরার মঞ্চে জায়গা করে নিল তারা। ঐতিহাসিক এক রাতে ডেনামার্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল স্কটিশরা।
নিজেদের মাঠ হ্যাম্পডন পার্কে গতকাল রাতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে হারিয়েছে স্কটল্যান্ড। উত্থান-পতনের ম্যাচে ড্র করলেই সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট কাটত ডেনমার্ক। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে সমতাও ছিল। তবে যোগ করা সময়ে দুই গোল করে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দে ভাসে স্কটল্যান্ড।
গ্রুপ ‘সি’ থেকে ছয় ম্যাচে ৪ জয়, এক ড্র ও এক হারে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা স্কটল্যান্ড। আর ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থেকে বিশ্বকাপের প্লে-অফ খেলবে ডেনামার্ক।
স্কটল্যান্ড শেষবার ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। ব্রাজিল ও মরক্কোর কাছে হেরে এবং নরওয়ের বিপক্ষে ড্র করে তারা গ্রুপ পর্বেই ছিটকে যায়। এর পরে টানা দুই দশক বড় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে থাকার ইতিহাস—একটানা ছয় বিশ্বকাপ ও পাঁচ ইউরোতে দর্শক হয়ে থাকা।
তিউনিসিয়ার বিপক্ষে হোঁচট খেল ব্রাজিল
স্টিভ ক্লার্কের অধীনে স্কটল্যান্ড ইউরো ২০২০-এ ফেরে। এরপর ইউরোপ সেরার সবশেষ আসরে যোগ্যতা অর্জন করে। এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা ডেনমার্কের সঙ্গে ড্র, বেলারুশের বিপক্ষে দুই জয়, এবং গ্রিসের বিপক্ষে একটি জয় তুলে নেয়। যদিও গত সপ্তায় গ্রীসের কাছে ৩-২ গোলে হারে ক্লার্কের দল। তবে স্বপ্ন বেঁচে ছিল তখনও। ডেনমার্ককে হারালেই সরাসরি কোয়ালিফাই করার সুযোগ আসে। আর শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় স্কটল্যান্ড।
ম্যাচে অবশ্য গোল ছাড়া ম্যাচের সব পরিসংখ্যানেই স্কটল্যান্ড থেকে এগিয়ে ছিল ডেনমার্ক। ৬৩ শতাংশ বল দখলে রেখে ২০টি শট নিয়ে চারটি গোলমুখে রেখেছে ডেনিশরা। তবে লক্ষ্যে মাত্র পাঁচটি শট নিয়ে চারবারই সফল হয় স্বাগতিক স্কটল্যান্ড।
ম্যাচের তিন মিনিটেই অসাধারণ এক মুহূর্তের জন্ম দেন স্কট ম্যাকটমিনে। নাপোলির এই ফরোয়ার্ড দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিকে স্কটল্যান্ডকে এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়ে প্রথামার্ধে ১০টি শট নেয় ডেনমার্ক, তবে কাঙ্খিত ফল মেলেনি।
বিরতির পর ডেনমার্ক সমতায় ফেরে রাসমুস হয়লুন্দের পেনাল্টি থেকে। নাপোলিতে ধারে খেলা এই ফরোয়ার্ড ৫৭ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ১-১ করেন। ৭৮ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড। বদলি নামা লরেন্স শাঙ্কলান্ডের সেই গোলের চার মিনিট পরই ফের সমতায় ফিরে ডেনমার্ক। সফরকারীদের হয়ে গোল করেন প্যাট্রিক ডর্গু।
প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পেলেই চলত ডেনমার্কের। তবে তিন দশক পর বিশ্বকাপে ফেরার স্বপ্নে বুদ হয়ে থাকা স্কটিশরা জয় নিয়েই যেন মাঠ ছাড়ার শপথ করে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে স্কটল্যান্ডকে আবার এগিয়ে নেন কিয়েরান টিয়েরনি। মিনিট পাঁচেক পর ম্যাকলিনের দৃষ্টিনন্দন গোলে ডেনমার্কের ফেরার পথ শেষ হয়। আর উল্লাসে ফেটে পড়ে স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়রা।
ম্যাচ শেষে উচ্ছসিত স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন বিবিসিকে বলেন, ‘এটা আমার জীবনের সেরা রাতগুলোর একটি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা দেশের মানুষকে ভীষণ উদ্বেগে রেখেছিলাম, কিন্তু এটা সার্থক হয়েছে। আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি।’
সমর্থকদের উচ্ছাসও ছিল বাঁধভাঙা। হ্যাম্পডেন পার্কের বাইরে চিৎকার করে গল বসে যাওয়া এক সমর্থক বলেন, ‘এটা আমার জীবনের সবকিছু। আমি মাত্র সাত বছর বয়সে শেষবার আমরা বিশ্বকাপে গিয়েছিলাম। দ্বিতীয় আর তৃতীয় গোলটা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম, কিন্তু চতুর্থটা না! অবিশ্বাস্য ছিল।’
এদিন গ্রুপ সেরা হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে আরও চারটি দল- স্পেন, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড। তুরস্কের বিপক্ষে ২-২ ড্র করে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের সেরা হয়ে লক্ষ্য পূরণ করেছে স্পেন। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হওয়া তুরস্ক খেলবে প্লে-অফে।
লিখটনস্টাইনকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে, ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের সেরা হয়েছে বেলজিয়াম। নর্থ মেসিডোনিয়াকে ৭-১ গোলে হারিয়ে এই গ্রুপের রানার্সআপ ওয়েলস, ১৬ পয়েন্ট। এছাড়া ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের সেরা হয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা পোক্ত করেছে অস্ট্রিয়া।
কসোভোর সঙ্গে ১-১ ড্র করে, ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের সেরা হয়েছে সুইজারল্যান্ড। ১১ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ কসোভো। ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দল সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে। রানার্সআপ হওয়া দলগুলো খেলবে প্লে-অফে।



























চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেফতার