ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দারুণ প্রত্যাবর্তনে জয়ের পরও দুশ্চিন্তায় বার্সা

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 61

প্রতিপক্ষ এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একটি ম্যাচেও জয় পায়নি। পয়েন্ট টেবিলের তলানীতে অবস্থান করা দলকে উড়িয়ে দেওয়াটাই বার্সেলোনার জন্য প্রত্যাশিত ছিল। তবে নিজেদের ডেরায় ছেড়ে কথা বলেনি চেক প্রজাতন্ত্রের ক্লাবটি। শুরুতে বার্সার জালে বল পাঠিয়ে লিডও নেয় স্লাভিয়া প্রাহা। শেষ পর্যন্ত শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়ে ঘরে ফিরেছে কাতালান ক্লাবটি। কিন্তু দারুণ এই জয়ের পরও দলের দুই খেলোয়াড়ের চোট আর কার্ডজনীত নিষেধাজ্ঞার খড়গ কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গতকাল রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে ৪-২ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। প্রাগের হিমশীতল রাতে ভাসিল কুসেইয়ের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, জোড়া গোল করে বার্সেলোনাকে দু’দফা এগিয়ে নেন ফার্মিন লোপেজ। তারপর রবার্ট লেভানডফস্কির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমো দুর্দান্ত গোলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর গোল করে আত্মঘাতি গোলের প্রায়শ্চিত্ত করেন পোলিশ তারকা ফরোয়ার্ড লেভানডফস্কি।

এই জয়ের পর ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিতের আশা বাঁচিয়ে রাখল বার্সা। সাত ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে আছে বার্সেলোনা। সেরা আটে থাকতে হলে লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডে জিততেই হবে হান্সি ফ্লিকের দলের। আগামী ২৮ জানুয়ারি ঘরের মাঠে ডেনমার্কের ক্লাব এফসি কোবেনহেবনের বিপক্ষে পুরো তিন পয়েন্ট পেলেই চলবে প্রতিযোগিতার পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।

সিলেটকে হারিয়ে ফাইনালে রাজশাহী

স্লাভিয়া প্রাগের মাঠে জয়ের পর বড় দুঃসংবাদ হয়ে আসে বার্সার মাঝমাঠের মধ্যমণি পেদ্রির চোট। ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা স্বীকার করেছেন, পেদ্রির চোটের খবরটি মোটেও সুখকর নয়। জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ রাউন্ডের ম্যাচে আরেক মিডফিল্ডার ফ্রেংকি ডি ইয়ংকেও পাবে না বার্সা। হলুদ কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ থাকবেন বার্সার ডাচ মিডফিল্ডার।

প্রাগে তীব্র শীতের রাতে—যেখানে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এমন হিমশীতল ম্যাচের শুরুতেই সফরকারী বার্সেলোনাকে চমকে দেয় স্লাভিয়া প্রাহা ম্যাচের ১০ মিনিটে দারুণ একটি কর্নার থেকে টমাস হোলেস নিকট পোস্ট থেকে বল ফ্লিক করে পাঠান দূরের পোস্টে। সেখানে ডি ইয়ংয়ের চাপের মধ্যেই ভাসিল কুশেই বল জালে জড়ান।

৩৪ মিনিটে সমতায় ফেরে বার্সা। বক্সের ভেতর থেকে নিঁখুত কোণাকুণি শটে ফারমিন লোপেজ গোল করেন। স্লোভাকিয়ান গোলরক্ষক ইয়িন্দরিখ স্তানেকের কাঁধে হালকা ছোঁয়া লেগে বলটি নিকট পোস্ট দিয়ে জালে ঢুকে যায়।

৪২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন লোপেজ। বক্সের কিনারা থেকে নিখুঁত শটে ডান পাশের নিচের কর্নারে বল পাঠান তিনি, এবারও স্তানেকের কিছুই করার ছিল না।

তবে বার্সার লিড নেওয়ার স্বস্তি টিকে ছিল মাত্র দুই মিনিট। কর্নার সামলাতে গিয়ে রবার্ট লেভানডফস্কির কাঁধে লেগে বল ঢুকে যায় নিজের জালেই। তাতে ২–২ সমতায় থেকেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

বিরতির পর নতুন করে গুছিয়ে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সেলোনা। একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়ায় স্লাভিয়ার রক্ষণে। রাফিনিয়া, পেদ্রি ও ফারমিন একাধিক ভালো সুযোগ নষ্ট করলেও ৬৪ মিনিটে বদলি নামা দানি ওলমো দেখান নিজের জাদু। বক্সের কিনারা থেকে দুর্দান্ত শটে তিনি বল পাঠান জালের ওপরের কর্নারে, ব্যবধান তখন ৩-২।

তারপর ৭০ মিনিটে আগের আত্মঘাতী গোলের প্রায়শ্চিত্ত করেন লেভানডফস্কি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা মার্কাস র‍্যাশফোর্ড বাঁ দিক দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে বক্সে ক্রস দেন। প্রথম স্পর্শে বল ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলেও দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় বল ঠেলে দেন জালে, বার্সেলোনার লিড বাড়ে দুই গোলে।

ম্যাচে মোট ৫৯ শতাংশ বল পজিশনে রাখা বার্সা শট নেয় ২০টি, লক্ষ্যে ছিল ১২টি। বিপরীতে ১২টি শট নেওয়া স্লাভিয়া প্রাহা মাত্র দুটি শট গোলমুখে রাখতে সক্ষম হয়।

এই ম্যাচ যে কঠিন হতে পারে সেটা জানতেন ফারমিন লোপেজ। ম্যাচ শেষে মুভিস্টার প্লাসকে জোড়া গোল করা স্প্যানিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমরা জানতাম ঠান্ডার কারণে ম্যাচটা খুব কঠিন হবে। ওরা আমাদের ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করেছে। সত্যিই কঠিন ছিল—আমার পা আর হাত ব্যথায় অবশ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি এবং জিতেছি।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দারুণ প্রত্যাবর্তনে জয়ের পরও দুশ্চিন্তায় বার্সা

আপডেট সময় : ০৩:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রতিপক্ষ এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একটি ম্যাচেও জয় পায়নি। পয়েন্ট টেবিলের তলানীতে অবস্থান করা দলকে উড়িয়ে দেওয়াটাই বার্সেলোনার জন্য প্রত্যাশিত ছিল। তবে নিজেদের ডেরায় ছেড়ে কথা বলেনি চেক প্রজাতন্ত্রের ক্লাবটি। শুরুতে বার্সার জালে বল পাঠিয়ে লিডও নেয় স্লাভিয়া প্রাহা। শেষ পর্যন্ত শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়ে ঘরে ফিরেছে কাতালান ক্লাবটি। কিন্তু দারুণ এই জয়ের পরও দলের দুই খেলোয়াড়ের চোট আর কার্ডজনীত নিষেধাজ্ঞার খড়গ কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গতকাল রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে ৪-২ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। প্রাগের হিমশীতল রাতে ভাসিল কুসেইয়ের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, জোড়া গোল করে বার্সেলোনাকে দু’দফা এগিয়ে নেন ফার্মিন লোপেজ। তারপর রবার্ট লেভানডফস্কির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমো দুর্দান্ত গোলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর গোল করে আত্মঘাতি গোলের প্রায়শ্চিত্ত করেন পোলিশ তারকা ফরোয়ার্ড লেভানডফস্কি।

এই জয়ের পর ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিতের আশা বাঁচিয়ে রাখল বার্সা। সাত ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে আছে বার্সেলোনা। সেরা আটে থাকতে হলে লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডে জিততেই হবে হান্সি ফ্লিকের দলের। আগামী ২৮ জানুয়ারি ঘরের মাঠে ডেনমার্কের ক্লাব এফসি কোবেনহেবনের বিপক্ষে পুরো তিন পয়েন্ট পেলেই চলবে প্রতিযোগিতার পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।

সিলেটকে হারিয়ে ফাইনালে রাজশাহী

স্লাভিয়া প্রাগের মাঠে জয়ের পর বড় দুঃসংবাদ হয়ে আসে বার্সার মাঝমাঠের মধ্যমণি পেদ্রির চোট। ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা স্বীকার করেছেন, পেদ্রির চোটের খবরটি মোটেও সুখকর নয়। জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ রাউন্ডের ম্যাচে আরেক মিডফিল্ডার ফ্রেংকি ডি ইয়ংকেও পাবে না বার্সা। হলুদ কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ থাকবেন বার্সার ডাচ মিডফিল্ডার।

প্রাগে তীব্র শীতের রাতে—যেখানে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এমন হিমশীতল ম্যাচের শুরুতেই সফরকারী বার্সেলোনাকে চমকে দেয় স্লাভিয়া প্রাহা ম্যাচের ১০ মিনিটে দারুণ একটি কর্নার থেকে টমাস হোলেস নিকট পোস্ট থেকে বল ফ্লিক করে পাঠান দূরের পোস্টে। সেখানে ডি ইয়ংয়ের চাপের মধ্যেই ভাসিল কুশেই বল জালে জড়ান।

৩৪ মিনিটে সমতায় ফেরে বার্সা। বক্সের ভেতর থেকে নিঁখুত কোণাকুণি শটে ফারমিন লোপেজ গোল করেন। স্লোভাকিয়ান গোলরক্ষক ইয়িন্দরিখ স্তানেকের কাঁধে হালকা ছোঁয়া লেগে বলটি নিকট পোস্ট দিয়ে জালে ঢুকে যায়।

৪২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন লোপেজ। বক্সের কিনারা থেকে নিখুঁত শটে ডান পাশের নিচের কর্নারে বল পাঠান তিনি, এবারও স্তানেকের কিছুই করার ছিল না।

তবে বার্সার লিড নেওয়ার স্বস্তি টিকে ছিল মাত্র দুই মিনিট। কর্নার সামলাতে গিয়ে রবার্ট লেভানডফস্কির কাঁধে লেগে বল ঢুকে যায় নিজের জালেই। তাতে ২–২ সমতায় থেকেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

বিরতির পর নতুন করে গুছিয়ে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সেলোনা। একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়ায় স্লাভিয়ার রক্ষণে। রাফিনিয়া, পেদ্রি ও ফারমিন একাধিক ভালো সুযোগ নষ্ট করলেও ৬৪ মিনিটে বদলি নামা দানি ওলমো দেখান নিজের জাদু। বক্সের কিনারা থেকে দুর্দান্ত শটে তিনি বল পাঠান জালের ওপরের কর্নারে, ব্যবধান তখন ৩-২।

তারপর ৭০ মিনিটে আগের আত্মঘাতী গোলের প্রায়শ্চিত্ত করেন লেভানডফস্কি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা মার্কাস র‍্যাশফোর্ড বাঁ দিক দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে বক্সে ক্রস দেন। প্রথম স্পর্শে বল ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলেও দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় বল ঠেলে দেন জালে, বার্সেলোনার লিড বাড়ে দুই গোলে।

ম্যাচে মোট ৫৯ শতাংশ বল পজিশনে রাখা বার্সা শট নেয় ২০টি, লক্ষ্যে ছিল ১২টি। বিপরীতে ১২টি শট নেওয়া স্লাভিয়া প্রাহা মাত্র দুটি শট গোলমুখে রাখতে সক্ষম হয়।

এই ম্যাচ যে কঠিন হতে পারে সেটা জানতেন ফারমিন লোপেজ। ম্যাচ শেষে মুভিস্টার প্লাসকে জোড়া গোল করা স্প্যানিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমরা জানতাম ঠান্ডার কারণে ম্যাচটা খুব কঠিন হবে। ওরা আমাদের ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করেছে। সত্যিই কঠিন ছিল—আমার পা আর হাত ব্যথায় অবশ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি এবং জিতেছি।’