ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিয়েতনামের সঙ্গে ইইউ’র সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 87
102

ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা হ্যানয় সফরকালে বৃহস্পতিবার ভিয়েতনাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)’র মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

কস্তার এই সফরকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। হ্যানয় থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

কস্তা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, এই উন্নয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভিয়েতনামের সহযোগিতার ‘গভীরতা ও বিস্তৃতিকে’ তুলে ধরে।

তার ভাষায়, ‘বাণিজ্য, সবুজ জ্বালানি, উন্নয়ন অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা— সব ক্ষেত্রেই আমরা আরও অনেক কিছু করতে পারি।’

চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো, যখন এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি দেশটির শীর্ষ নেতা হিসেবে জেনারেল সেক্রেটারি তো লামকে পুনর্বহাল করেছে।

একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধিনির্ভর ব্যাপক পরিবর্তনের তার দৃষ্টিভঙ্গিকেও সমর্থন দিয়েছে দলটি।

ভিয়েতনাম ও ইইউ ২০১৯ সালে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর পর থেকে দুই পক্ষের বাণিজ্য প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

তবে ইইউ’র সঙ্গে হ্যানয়ের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপীয় নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তারা ইউরোপীয় পণ্য, বিশেষ করে গাড়ির ওপর আরোপিত অশুল্ক বাধা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে দেশটির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও, এশিয়ার দেশটি গত বছর আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আর এর ফলে ভিয়েতনাম আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।

বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাইরে নতুন বাজার খুঁজছে হ্যানয়।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দলের দ্বিবার্ষিক নেতৃত্ব সম্মেলনে পররাষ্ট্র নীতিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি একটি ‘কেন্দ্রীয়’ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বোস্টন কলেজের ভিজিটিং স্কলার ও ভিয়েতনাম বিশেষজ্ঞ খাং ভু বলেন, ইইউ’র সঙ্গে সম্পর্ক উন্নীত করা ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে হ্যানয়ের রফতানি বাজার বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টার অংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি উন্মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে চায়, আর ইইউ এতে সহায়তা করতে পারে।’

চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ভিয়েতনামের পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে।

২০২২ সাল থেকে প্রায় এক ডজন দেশের সঙ্গে একই ধরনের অংশীদারত্বে পৌঁছেছে দেশটি। লক্ষ্য—বাজার, জ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা আরও জোরদার করা।

ভিয়েতনাম দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভিয়েতনামের সঙ্গে ইইউ’র সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

আপডেট সময় : ০৫:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
102

ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা হ্যানয় সফরকালে বৃহস্পতিবার ভিয়েতনাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)’র মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

কস্তার এই সফরকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। হ্যানয় থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

কস্তা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, এই উন্নয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভিয়েতনামের সহযোগিতার ‘গভীরতা ও বিস্তৃতিকে’ তুলে ধরে।

তার ভাষায়, ‘বাণিজ্য, সবুজ জ্বালানি, উন্নয়ন অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা— সব ক্ষেত্রেই আমরা আরও অনেক কিছু করতে পারি।’

চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো, যখন এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি দেশটির শীর্ষ নেতা হিসেবে জেনারেল সেক্রেটারি তো লামকে পুনর্বহাল করেছে।

একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধিনির্ভর ব্যাপক পরিবর্তনের তার দৃষ্টিভঙ্গিকেও সমর্থন দিয়েছে দলটি।

ভিয়েতনাম ও ইইউ ২০১৯ সালে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর পর থেকে দুই পক্ষের বাণিজ্য প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

তবে ইইউ’র সঙ্গে হ্যানয়ের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপীয় নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তারা ইউরোপীয় পণ্য, বিশেষ করে গাড়ির ওপর আরোপিত অশুল্ক বাধা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে দেশটির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও, এশিয়ার দেশটি গত বছর আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আর এর ফলে ভিয়েতনাম আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।

বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাইরে নতুন বাজার খুঁজছে হ্যানয়।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দলের দ্বিবার্ষিক নেতৃত্ব সম্মেলনে পররাষ্ট্র নীতিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি একটি ‘কেন্দ্রীয়’ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বোস্টন কলেজের ভিজিটিং স্কলার ও ভিয়েতনাম বিশেষজ্ঞ খাং ভু বলেন, ইইউ’র সঙ্গে সম্পর্ক উন্নীত করা ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে হ্যানয়ের রফতানি বাজার বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টার অংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি উন্মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে চায়, আর ইইউ এতে সহায়তা করতে পারে।’

চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ভিয়েতনামের পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে।

২০২২ সাল থেকে প্রায় এক ডজন দেশের সঙ্গে একই ধরনের অংশীদারত্বে পৌঁছেছে দেশটি। লক্ষ্য—বাজার, জ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা আরও জোরদার করা।

ভিয়েতনাম দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে।