নোয়াখালীর ৫ গ্রামের দু’শতাধিক মানুষের ঈদ উৎযাপন
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
- / 56
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার পাঁচ গ্রামের দুই শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আজ (শুক্রবার, ২০ মার্চ) ঈদ উদযাপন করেছেন। তাদের পূর্বপুরুষদের দেখানো পথ ধরে শত বছরের বেশি সময় ধরে তারা এই সংস্কৃতি পালন করে আসছেন। আগাম ঈদ উদযাপনকারী এসব মানুষ হানাফী মাযহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী।
শুক্রবার সকাল ৮টায় তিন উপজেলার ১০টি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন তারা।
গ্রামগুলো হলো- নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর গ্রাম, কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের রামভল্লবপুর, বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রাম।
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে ঈদ উদযাপন
কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছর একদিন আগে রোজা রাখেন। এছাড়া ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে থাকেন। তারা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া জাহাগিরিয়া দরবার শরীফের কাদেরিয়া চিশতিয়া জাহাগিরিয়া তরিকার অনুসারী। এ তরিকার সবশেষ পীর হযরত শাহ মাওলানা সৈয়দ সংগ্রামী ফকির গোলাম রহিমের পুত্র মাওলানা সৈয়দ মাখ্ছুছুর রহিম পীর মিয়া।
নোয়াখালীর সদর উপজেলার লক্ষীনারায়নপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘চাঁদের উপর নির্ভর করে তারা ঈদসহ ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছেন বছরের পর বছর ধরে। পৃথিবীর কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে তারা সে হিসাব অনুযায়ী ঈদ ও কোরবানি পালন করেন। তাদের কয়েক প্রজন্ম পূর্ব থেকেই তারা এ রীতিনীতি পালন করে আসছেন।’
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা নাছির আহমদ বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকেই দেখি পরিবারের সবাই একদিন আগে রোযা রাখেন এবং আগাম ঈদ পালন করেন। আমাদের গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই এভাবে চলে আসছেন। আমরা ঈদের নামাজ পড়ে সবার সঙ্গে কোলাকুলি করি, একে অপরের বাড়ি গিয়ে সেমাই খাই। খুব ভালোই লাগে।’
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নোয়াখালীর তিনটি উপজেলার পাঁচটি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎযাপন করছেন। এছাড়া জেলা জুড়ে আগামীকাল (শনিবার, ২১ মার্চ) বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হবে। মুসল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।’
উল্লেখ্য, কাদেরিয়া তরিকা হলো ইসলামি সুফিবাদের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী একটি ধারা, যা দ্বাদশ শতাব্দীর (ষষ্ঠ হিজরি) প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত আব্দুল কাদির জিলানীর (র.) নামে প্রতিষ্ঠিত। এই তরিকা কঠোর ইবাদত, আত্মশুদ্ধি, ফকিরি এবং জাগতিক ভোগবিলাস বর্জনের ওপর জোর দেয়। বিশ্বের বহু দেশে, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে এর ব্যাপক অনুসরণ রয়েছে।
























চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর