ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রায় ৬ লাখ মুসল্লির ঢলে ইতিহাস ছুঁলো ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • / 40

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড়বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। এবারের ঈদ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অন্তত ৬ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সকাল থেকেই মুসুল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ময়দানে। সকাল ৯টার মধ্যেই প্রায় ৭ একর আয়তনের এবং ২০৬টির অধিক সারি থাকা পুরো মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেককে মাঠের বাইরের রাস্তায় কাতার করে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। এখানকার দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে নামাজের প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ঈদগাহে লাখো মুসল্লির নামাজ আদায়

ঈদ জামাতকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন ছিল ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ১১০০ পুলিশ সদস্য, র‍্যাবের ৬টি দল, ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আনসার সদস্যরা। এর পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসি ক্যামেরা, ৬টি ওয়াচ টাওয়ার এবং পুলিশের ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মুসল্লিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার কারণে জায়নামাজ, টুপি ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কোনো কিছু নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারেননি মুসল্লিরা। তবে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে আগত মুসল্লিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে। এ ছাড়া আগত মুসল্লিদের সহায়তার জন্য মাঠে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক, কয়েকটি চিকিৎসক দল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হযরত খান বাহাদুর ১৮২৮ সালে নরসুন্দা নদীর তীরে এই ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ওই বছর প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মানুষ অংশ নেওয়ায় এটি ‘সোয়া লাখি মাঠ’ হিসেবে পরিচিতি পায় এবং পরে বিবর্তিত হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নাম ধারণ করে।

এবারের জামাত শেষে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ আমাদের অহংকার এবং এটি জাতীয় ঈদগাহের মর্যাদা বহন করে। তবে সে অনুযায়ী এর উন্নয়ন না হওয়ায় মাঠটির সংস্কারসহ যাবতীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামও জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লি এবং এটি সফল করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রায় ৬ লাখ মুসল্লির ঢলে ইতিহাস ছুঁলো ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দান

আপডেট সময় : ০১:২৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড়বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। এবারের ঈদ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অন্তত ৬ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সকাল থেকেই মুসুল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ময়দানে। সকাল ৯টার মধ্যেই প্রায় ৭ একর আয়তনের এবং ২০৬টির অধিক সারি থাকা পুরো মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেককে মাঠের বাইরের রাস্তায় কাতার করে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। এখানকার দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে নামাজের প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ঈদগাহে লাখো মুসল্লির নামাজ আদায়

ঈদ জামাতকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন ছিল ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ১১০০ পুলিশ সদস্য, র‍্যাবের ৬টি দল, ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আনসার সদস্যরা। এর পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসি ক্যামেরা, ৬টি ওয়াচ টাওয়ার এবং পুলিশের ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মুসল্লিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার কারণে জায়নামাজ, টুপি ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কোনো কিছু নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারেননি মুসল্লিরা। তবে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে আগত মুসল্লিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে। এ ছাড়া আগত মুসল্লিদের সহায়তার জন্য মাঠে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক, কয়েকটি চিকিৎসক দল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হযরত খান বাহাদুর ১৮২৮ সালে নরসুন্দা নদীর তীরে এই ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ওই বছর প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মানুষ অংশ নেওয়ায় এটি ‘সোয়া লাখি মাঠ’ হিসেবে পরিচিতি পায় এবং পরে বিবর্তিত হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নাম ধারণ করে।

এবারের জামাত শেষে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ আমাদের অহংকার এবং এটি জাতীয় ঈদগাহের মর্যাদা বহন করে। তবে সে অনুযায়ী এর উন্নয়ন না হওয়ায় মাঠটির সংস্কারসহ যাবতীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামও জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লি এবং এটি সফল করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।