হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০১:৫০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / 2
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এবং ইরানের সেখানে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। একইসঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে দেয়া অথবা ‘খুব, খুব কঠোরভাবে’ আঘাত করার মতো অপশন তার হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইরান পরিস্থিতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে—একেবারে ভালো। হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে, অন্য কারও নয়, শুধু আমাদের। আমাদের নৌবাহিনী অসাধারণ এবং আমাদের দেশের জন্য সবকিছু দারুণভাবে এগোচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। ইরানকে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে আমিই শেষ ব্যক্তি। তারা নিয়মিত আমার সঙ্গে মিথ্যা বলেছে। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।’
এর আগে গত সোমবার রাতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘কৌশলী আলোচক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে চলমান যুদ্ধে তার হাতে থাকা কয়েকটি সম্ভাব্য কৌশলের কথাও জানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো—তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হতে দেয়া। অন্যটি হলো ইরানকে ‘খুব, খুব কঠোরভাবে’ আঘাত করা।
‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’-কে ফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একধরনের আলোচনা করছি। তারা খুবই কৌশলী আলোচক।’
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প কখনও উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনও দাবি করেছেন, শান্তিচুক্তি খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার পাকিস্তান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক ধরনের সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। কাতারও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা বেশ অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। তবে এর মধ্যেই আঞ্চলিক জলসীমায় জাহাজে নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এখন যেভাবে এগোচ্ছি, সেভাবেই এগোব এবং দেখব তারা কতটা খারাপ অবস্থায় পড়ে’। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে তারা বিপর্যস্ত। তারা ঋণ নিতে পারছে না। তাদের যে অর্থ ছিল, যা অনেক ছিল, সেটির নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে। আমরা এর পুরো নিয়ন্ত্রণে আছি। আমি তাদের ব্যাংকার।’
ট্রাম্প মূলত ইরানের জব্দ করা সম্পদের কথা উল্লেখ করে একথা বলেন। তেহরানের বিষয়ে ট্রাম্পের আরেকটি বিকল্প হলো ইরানকে ‘খুব, খুব কঠোরভাবে আঘাত করা’।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে গোলাবারুদের ঘাটতি তৈরি হয়েছে—এমন উদ্বেগও উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘পাগলের মতো’ গোলাবারুদ তৈরি করছে। একইসঙ্গে এ ঘাটতির জন্য তার পূর্বসূরি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেন তিনি।
গত সপ্তাহে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের নির্ভুলতাসম্পন্ন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় একটি অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এতে ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘গোলাবারুদের বিষয়ে আমরা ঠিক আছি। আমরা এখন পাগলের মতো গোলাবারুদ তৈরি করছি। আর এটি কমে যাওয়ার কারণ হলো, তিনি (বাইডেন) ইউক্রেনকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিয়েছেন।’






















সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর