ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের সামনে সেমিতে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 8

এশিয়া কাপের শুরুতে বাংলাদেশের স্বপ্নটা ছিল বেশ পরিষ্কার-ফাইনাল খেলতে হবে। সেই পথটা একটু সহজ করতে সেমিফাইনালে ভারতকে এড়ানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু ক্রিকেটে সব পরিকল্পনা তো আর নিজের হাতে থাকে না। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর সেই হিসাব বদলে গেছে। এখন ফাইনালে যাওয়ার পথে বাংলাদেশের সামনে সেই ভারতই, যাদের এড়াতে চেয়েছিল দলটি।

১০ সেপ্টেম্বরের (বৃহস্পতিবার) সেমিফাইনালে তাই বাংলাদেশের সামনে শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং নিজেদের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে যাওয়ার বড় পরীক্ষা। একদিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি ভারত, অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগতে থাকা বাংলাদেশ। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও ভয়কে সঙ্গী করতে চান না শারমিন আক্তার সুপ্তা।

বরং তার কাছে ভারতের বিপক্ষে খেলাটাই বড় সুযোগ, ‘আমার মনে হয় মাঝেমধ্যে চাপ থাকবে, যদি সেভাবে ভাবেন আরকি। আমাদের জন্য ব্যাপারটা আনন্দের। আমরা ভারতের মত দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাচ্ছি, তারা শীর্ষ দল। যদি চ্যাম্পিয়ন হতে চান, তাহলে এমন দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। ফলে ব্যাপারটা আনন্দের, চাপের না।’

সুপ্তার এই মানসিকতার পেছনে অবশ্য বাস্তবতাও আছে। গ্রুপ পর্বে ভারত তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ তিন ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ। শক্তির বিচারে ব্যবধানটা বড় হলেও নকআউট ম্যাচে আগের পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্স।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১২৯ রান দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান নেমে আসে ১১৪-তে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ। মাত্র ১০৩ রানেই থেমে যায় ইনিংস। শুরুতে আট রানে দুই উইকেট হারানোর পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও ৫৫ রানের মধ্যেই ছয় উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

ঠিক সেই জায়গাতেই ম্যাচের গল্প বদলাতে শুরু করেন সুপ্তা। একাদশে ফিরে পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ৩১ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর নাহিদা আক্তারকে নিয়ে গড়েন ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। বাংলাদেশের ইনিংসকে একশ পেরোনোর মতো অবস্থায় নিয়ে যাওয়াটাই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। কারণ ১০৩ রান খুব বড় স্কোর না হলেও বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ওপর আস্থা ছিল দলের।

দ্রুত উইকেট হারানোর সেই সময়টাকে তাই খুব অস্বাভাবিক কিছু হিসেবে দেখছেন না সুপ্তা, ‘আমার মনে হয়েছে তখন টিকে থেকে টেইলএন্ডারদের সাথে জুটি বানানো দরকার ছিল। কারণ শুরুতে যখন ৫-৬ উইকেট হারিয়ে ফেলবেন, তখন কিছুটা বিপদে তো পড়বেন।’

সেই বিপদ সামলাতে নাহিদার অবদানও ভুলছেন না তিনি, ‘নাহিদা দারুণ ছিল। সে আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে এবং তাকে নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ যে একশ পার করতে পেরেছি। আমরা আমাদের বোলিং নিয়ে আগেই জানতাম (তাই রান নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম)।’

বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা একটাই নয়। ব্যাটিং যখন বারবার পরীক্ষা নিচ্ছে, তখন বোলিং বিভাগ দায়িত্বটা বেশ ভালোভাবেই পালন করছে। ইন্দোনেশিয়া ও আরব আমিরাতের বিপক্ষে কম রান নিয়েও জয় এসেছে মূলত বোলারদের দাপটে। ভারতের বিপক্ষে সেই বোলিংই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে।

ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। আর ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের টিকে থাকাটাও সহজ হবে না। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচের প্রতিটি ধাপই কঠিন।

তবু দুবাইয়ের গ্যালারি থেকে পাওয়া সমর্থন বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি দর্শকেরা। জয় এলে তাদের আনন্দও দলের জন্য আলাদা প্রাপ্তি।

সুপ্তা বলছিলেন, ‘যারা মাঠে এসেছেন ও আমাদের জন্য গলা ফাটিয়েছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যখন মানুষ আপনার জন্য স্টেডিয়ামে আসে ও জেতার পর তারা আনন্দ- উপভোগ করে, তখন সেটা আমাদের জন্যও এক ভীষণ প্রাপ্তি ও আনন্দের ব্যাপার।’

একসময় যে ভারতকে সেমিফাইনালে এড়াতে চেয়েছিল বাংলাদেশ, এখন সেই ভারতই ফাইনালের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। গ্রুপ পর্বের হিসাব শেষ, পুরোনো পরিকল্পনাও শেষ। সামনে কেবল একটি ম্যাচ। সেখানে ভারত ফেভারিট-এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সমীকরণও খুব কঠিন নয়- জিতলেই ফাইনাল!

সেমিফাইনাল সূচি-
প্রথম সেমিফাইনাল
বাংলাদেশ-ভারত
১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

দ্বিতীয় সেমিফাইনাল
শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান
১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের সামনে সেমিতে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১০:১২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়া কাপের শুরুতে বাংলাদেশের স্বপ্নটা ছিল বেশ পরিষ্কার-ফাইনাল খেলতে হবে। সেই পথটা একটু সহজ করতে সেমিফাইনালে ভারতকে এড়ানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু ক্রিকেটে সব পরিকল্পনা তো আর নিজের হাতে থাকে না। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর সেই হিসাব বদলে গেছে। এখন ফাইনালে যাওয়ার পথে বাংলাদেশের সামনে সেই ভারতই, যাদের এড়াতে চেয়েছিল দলটি।

১০ সেপ্টেম্বরের (বৃহস্পতিবার) সেমিফাইনালে তাই বাংলাদেশের সামনে শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং নিজেদের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে যাওয়ার বড় পরীক্ষা। একদিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি ভারত, অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগতে থাকা বাংলাদেশ। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও ভয়কে সঙ্গী করতে চান না শারমিন আক্তার সুপ্তা।

বরং তার কাছে ভারতের বিপক্ষে খেলাটাই বড় সুযোগ, ‘আমার মনে হয় মাঝেমধ্যে চাপ থাকবে, যদি সেভাবে ভাবেন আরকি। আমাদের জন্য ব্যাপারটা আনন্দের। আমরা ভারতের মত দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাচ্ছি, তারা শীর্ষ দল। যদি চ্যাম্পিয়ন হতে চান, তাহলে এমন দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। ফলে ব্যাপারটা আনন্দের, চাপের না।’

সুপ্তার এই মানসিকতার পেছনে অবশ্য বাস্তবতাও আছে। গ্রুপ পর্বে ভারত তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ তিন ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ। শক্তির বিচারে ব্যবধানটা বড় হলেও নকআউট ম্যাচে আগের পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্স।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১২৯ রান দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান নেমে আসে ১১৪-তে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ। মাত্র ১০৩ রানেই থেমে যায় ইনিংস। শুরুতে আট রানে দুই উইকেট হারানোর পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও ৫৫ রানের মধ্যেই ছয় উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

ঠিক সেই জায়গাতেই ম্যাচের গল্প বদলাতে শুরু করেন সুপ্তা। একাদশে ফিরে পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ৩১ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর নাহিদা আক্তারকে নিয়ে গড়েন ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। বাংলাদেশের ইনিংসকে একশ পেরোনোর মতো অবস্থায় নিয়ে যাওয়াটাই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। কারণ ১০৩ রান খুব বড় স্কোর না হলেও বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ওপর আস্থা ছিল দলের।

দ্রুত উইকেট হারানোর সেই সময়টাকে তাই খুব অস্বাভাবিক কিছু হিসেবে দেখছেন না সুপ্তা, ‘আমার মনে হয়েছে তখন টিকে থেকে টেইলএন্ডারদের সাথে জুটি বানানো দরকার ছিল। কারণ শুরুতে যখন ৫-৬ উইকেট হারিয়ে ফেলবেন, তখন কিছুটা বিপদে তো পড়বেন।’

সেই বিপদ সামলাতে নাহিদার অবদানও ভুলছেন না তিনি, ‘নাহিদা দারুণ ছিল। সে আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে এবং তাকে নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ যে একশ পার করতে পেরেছি। আমরা আমাদের বোলিং নিয়ে আগেই জানতাম (তাই রান নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম)।’

বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা একটাই নয়। ব্যাটিং যখন বারবার পরীক্ষা নিচ্ছে, তখন বোলিং বিভাগ দায়িত্বটা বেশ ভালোভাবেই পালন করছে। ইন্দোনেশিয়া ও আরব আমিরাতের বিপক্ষে কম রান নিয়েও জয় এসেছে মূলত বোলারদের দাপটে। ভারতের বিপক্ষে সেই বোলিংই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে।

ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। আর ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের টিকে থাকাটাও সহজ হবে না। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচের প্রতিটি ধাপই কঠিন।

তবু দুবাইয়ের গ্যালারি থেকে পাওয়া সমর্থন বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি দর্শকেরা। জয় এলে তাদের আনন্দও দলের জন্য আলাদা প্রাপ্তি।

সুপ্তা বলছিলেন, ‘যারা মাঠে এসেছেন ও আমাদের জন্য গলা ফাটিয়েছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যখন মানুষ আপনার জন্য স্টেডিয়ামে আসে ও জেতার পর তারা আনন্দ- উপভোগ করে, তখন সেটা আমাদের জন্যও এক ভীষণ প্রাপ্তি ও আনন্দের ব্যাপার।’

একসময় যে ভারতকে সেমিফাইনালে এড়াতে চেয়েছিল বাংলাদেশ, এখন সেই ভারতই ফাইনালের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। গ্রুপ পর্বের হিসাব শেষ, পুরোনো পরিকল্পনাও শেষ। সামনে কেবল একটি ম্যাচ। সেখানে ভারত ফেভারিট-এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সমীকরণও খুব কঠিন নয়- জিতলেই ফাইনাল!

সেমিফাইনাল সূচি-
প্রথম সেমিফাইনাল
বাংলাদেশ-ভারত
১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

দ্বিতীয় সেমিফাইনাল
শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান
১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার