ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠে নেমেই জোড়া গোল নেইমারের

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

গত ২ সেপ্টেম্বর ডান পায়ের ঊরুর চোটে পড়েছিলেন নেইমার জুনিয়র। এরপর দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পর মাঠে ফেরেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারের ওপর ভর করেই ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সান্তোস। ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোয় ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-র হাইভোল্টেজ ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও জোড়া পেনাল্টিতে দলকে এক পয়েন্ট এনে দেন এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ ফিটনেস সম্পূর্ণ না থাকায় সান্তোসের একাদশে স্থান পাননি নেইমার। ফিলিপে কুতিনিওর বদলি হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে যখন তিনি মাঠে নামেন, ততক্ষণে ৪৩ মিনিটে দানিলো এবং প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে লুকাস পাকেতার গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারী ফ্ল্যামেঙ্গো। গোল পেতে মরিয়া সান্তোস কোচ কুকা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নেইমারকে মাঠে নামালেও সান্তোস গোলের তেমন একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

তবে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকের সূত্রপাত হয়। ফ্ল্যামেঙ্গোর বক্সের ভেতর জর্জিনিও হ্যান্ডবল করলে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। লাল কার্ড দেখেন জর্জিনিও। ভিএআরের সিদ্ধান্তের কারণে খেলা প্রায় ১০ মিনিট (৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড) বন্ধ থাকে, যা ২০১৯ সালে ব্রাজিলিয়ান লিগে ভিএআর চালু হওয়ার পর দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড। ৮২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন নেইমার।

একজন খেলোয়াড় বেশি নিয়ে খেলার সুবিধাটা তাৎক্ষণিকভাবেই পায় সান্তোস। টানা আক্রমণের পথে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় প্রথম গোলের চার মিনিট পরই। সান্তোস ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল বারবোসাকে বক্সে ফাউল করেন ফ্ল্যামেঙ্গো উইঙ্গার লুইস আরাউহো। তাতে আবারও পেনাল্টি হজম করতে হয় ফ্ল্যামেঙ্গোকে এবং স্পট কিকে বাম দিক দিয়ে নেইমার গোল করে ম্যাচে সমতায় ফেরান সান্তোসকে।

তার আগে মাঠে নেমেই পরিচিত রূপে দেখা যায় নেইমারকে। রেফারির সাথে তর্কে জড়িয়ে ১০ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি ফ্ল্যামেঙ্গোর লুকাস পাকেতার সাথে বাদানুবাদেও জড়ান তিনি। তবে চোটগ্রস্ত ডান পা নিয়ে ছিলেন বেশ সতর্ক; ফ্রি-কিক এবং কর্নার শট নিয়েছেন বাঁ পায়ে। যদিও উভয় পেনাল্টি শটেই ব্যবহার করেছেন ডান পা। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘চোট থেকে ফেরায় (ডান পায়ে) দূরপাল্লার পাস দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইনি।’

ম্যাচে দুই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে নেইমার বলেন, ‘দারুণ ফল। দুই দলের জন্যই ম্যাচটা দারুণ ছিল, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একে অপরকে আক্রমণ করে গেছে। আমার মনে হয় ব্রাজিলে এ দুটো দলই সেরা।’

এই ড্রয়ে দুই দলেরই সাম্প্রতিক জয়ের রেকর্ড ভেঙেছে—সান্তোসের টানা ৭ ম্যাচ এবং ফ্ল্যামেঙ্গোর টানা ৫ ম্যাচের জয়রথ থামল। ২৯ ম্যাচ শেষে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ফ্ল্যামেঙ্গো, আর সমপরিমাণ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে সান্তোস।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাঠে নেমেই জোড়া গোল নেইমারের

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

গত ২ সেপ্টেম্বর ডান পায়ের ঊরুর চোটে পড়েছিলেন নেইমার জুনিয়র। এরপর দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পর মাঠে ফেরেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারের ওপর ভর করেই ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সান্তোস। ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোয় ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-র হাইভোল্টেজ ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও জোড়া পেনাল্টিতে দলকে এক পয়েন্ট এনে দেন এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ ফিটনেস সম্পূর্ণ না থাকায় সান্তোসের একাদশে স্থান পাননি নেইমার। ফিলিপে কুতিনিওর বদলি হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে যখন তিনি মাঠে নামেন, ততক্ষণে ৪৩ মিনিটে দানিলো এবং প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে লুকাস পাকেতার গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারী ফ্ল্যামেঙ্গো। গোল পেতে মরিয়া সান্তোস কোচ কুকা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নেইমারকে মাঠে নামালেও সান্তোস গোলের তেমন একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

তবে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকের সূত্রপাত হয়। ফ্ল্যামেঙ্গোর বক্সের ভেতর জর্জিনিও হ্যান্ডবল করলে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। লাল কার্ড দেখেন জর্জিনিও। ভিএআরের সিদ্ধান্তের কারণে খেলা প্রায় ১০ মিনিট (৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড) বন্ধ থাকে, যা ২০১৯ সালে ব্রাজিলিয়ান লিগে ভিএআর চালু হওয়ার পর দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড। ৮২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন নেইমার।

একজন খেলোয়াড় বেশি নিয়ে খেলার সুবিধাটা তাৎক্ষণিকভাবেই পায় সান্তোস। টানা আক্রমণের পথে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় প্রথম গোলের চার মিনিট পরই। সান্তোস ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল বারবোসাকে বক্সে ফাউল করেন ফ্ল্যামেঙ্গো উইঙ্গার লুইস আরাউহো। তাতে আবারও পেনাল্টি হজম করতে হয় ফ্ল্যামেঙ্গোকে এবং স্পট কিকে বাম দিক দিয়ে নেইমার গোল করে ম্যাচে সমতায় ফেরান সান্তোসকে।

তার আগে মাঠে নেমেই পরিচিত রূপে দেখা যায় নেইমারকে। রেফারির সাথে তর্কে জড়িয়ে ১০ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি ফ্ল্যামেঙ্গোর লুকাস পাকেতার সাথে বাদানুবাদেও জড়ান তিনি। তবে চোটগ্রস্ত ডান পা নিয়ে ছিলেন বেশ সতর্ক; ফ্রি-কিক এবং কর্নার শট নিয়েছেন বাঁ পায়ে। যদিও উভয় পেনাল্টি শটেই ব্যবহার করেছেন ডান পা। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘চোট থেকে ফেরায় (ডান পায়ে) দূরপাল্লার পাস দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইনি।’

ম্যাচে দুই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে নেইমার বলেন, ‘দারুণ ফল। দুই দলের জন্যই ম্যাচটা দারুণ ছিল, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একে অপরকে আক্রমণ করে গেছে। আমার মনে হয় ব্রাজিলে এ দুটো দলই সেরা।’

এই ড্রয়ে দুই দলেরই সাম্প্রতিক জয়ের রেকর্ড ভেঙেছে—সান্তোসের টানা ৭ ম্যাচ এবং ফ্ল্যামেঙ্গোর টানা ৫ ম্যাচের জয়রথ থামল। ২৯ ম্যাচ শেষে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ফ্ল্যামেঙ্গো, আর সমপরিমাণ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে সান্তোস।